আমার কোনো দেবতা নেই – পর্ব-১, পর্ব-২ ও পর্ব-৩
পর্ব-১

জানিস বিনি,
রাস্তায় ওদের সাথে দেখা হলে,
কৃত্রিম হাসির নাচনে,
ওরাই জিজ্ঞেস করে,
তুমি কি ভালো আছো আগের থেকে?
আমি
বলে থাকি,
আমি
বুঝতে পারিনা,
আমারই ভালো বা আমারই খারাপ--
সত্যি বিনি,
আমি তাই মনে করি
আমি কি ভালো আছি?
মনে মনে ভালোবাসার
ছয় ঋতু
বুঝতে পারি,
বা অনুভূতি ছড়িয়ে
যায়
আলজিভ থেকে ঠোঁট পর্যন্ত--
আমি
ওদের প্রশ্নের মধ্যে তির্যক
খোঁচাটা বুঝতে পারি,
আমার আপাতত ভালো থাকার—
জানিস বিনি,
যখন ওরা হাত ধারাধরি করে
রাস্তা পেরিয়ে যায়,
ওদের দেখে
যে কোনো কারণে,
আমার চোখ ভিজে আসে
অজানা আনন্দে, খুশিতে—
আমি গতকালই অনেক বইয়ের
পাতাগুলো ছিঁড়ে ফেলে,
একটা আতঙ্কের শিল্প তৈরি
করেছি,
যেখানে আমার সব উপায়গুলো
আঁকা থাকে ওই চিত্রিত শিল্পে—
জানিস বিনি,
আমার যখন আঠারো বছর বয়স ছিল,
মন তখন খুবই খারাপ হতো,
আমি হোস্টেলে—
আমি একটা গাছকে বাঁচিয়ে
রাখতে পারিনি,
আমারই ভালোলাগার বাগানে
আমি সবাইকে মিস করতাম,
আমার পরিবারের আপনজনদের—
আমার সেই আঠারোতেই,
আমি গান গাইতে ভালোবাসি,
লিখতে ভালোবাসি—
আমি পছন্দ করি আমার
ওই কাজগুলোকে,
আমারই ভালোলাগার কাজ,
আমার মতো করে নিয়েছি—
আমার মনে যে জটিল
পরস্পরবিরোধী ভাবনা নিয়ে
এক আবেগহীন আর্ট তৈরি করি,
তখনই আমি ভাবতে থাকি
হোস্টেলের ভাড়া কিভাবে মেটাবো।
পর্ব-২

বিনি,
আমার আশেপাশে যারা থাকতো,
তারাও ছিল তাদের জটিল মন নিয়ে,
আমার সাথে কথা বলতো, মিশতো—
কিন্তু তাদেরকে মজার ও
অদ্ভুত লোকজন বলে মনে হতো—
ওদের রোদেপোড়া মুখ নিয়ে,
বা কেউ কেউ ভারি মুখে
আমাকে প্রশ্ন করতো—
ওই প্রশ্নগুলোকে আমার মনে হতো,
তাদের ক্ষুধার্ত চোখ,
আমার চোখের সংস্পর্শে আসার জন্য
উতলা হতো
লাল কার্পেট পেরিয়ে,
অন্য লোকদের দিকে তাকানো
এড়িয়ে, ভুলে গিয়ে—
বিনি,
আমাদের আরদ্ধ ব্রহ্মা আমার
এই পৃথিবী থেকে কত আলাদা,
সে যে এক তারকা,
কোনো বারটেন্ডার নয়—
প্রিয় ব্রহ্মা,
সূর্যের অতসী কাঁচের আলোতে,
তোমার চিকচিকে আলোয়,
আমাদের ভালোলাগা পানপাত্র
পূর্ণ হয়েছে—
ব্রহ্মা তোমারই দিন আমারই সন্ধে,
পারস্পারিক তোমার আদানে,
আমারই প্রদানে--
২০১৫-তে সাহিত্য অ্যাকাডেমিতে,
আমি আমার প্রচার নিজেই
করেছিলাম—
এক সাংবাদিক সাক্ষাৎকারে বলেছিলাম
কোনো সতর্কতা ছাড়াই,
প্রাসঙ্গিকতা বলেছিলাম
আমি কিভাবে ধর্ষণকে কাটিয়ে উঠেছিলাম—
আমার সেই সম্পর্ক নিয়ে কথা
বলতে বলতে,
অনায়াসে ওদেরকে বলেছিলাম
যা বললাম তা বলার নয়,
যা বলার দরকার তা আমি
বললাম এই সাক্ষাৎকারে।
পর্ব-৩

বিনি,
তোমার মেয়ে কি বড়ো হয়েছে,
সে কি শারদোৎসবের
যুবতী সকালের গন্ধ পায়?
সে যেভাবে নাচ্চে তোমার
ড্রয়িং রুমে
তাতে তুমি হাসতে থাকো—
ড্রয়িং রুমে
তার মোজা ও জুতো জোড়া
পড়ে আছে—
বিনি,
তোমার কি মন খারাপ হয়
তুমি কাঁদতে থাকো?
তোমার বয়স বেড়ে চলেছে,
আমারও বয়স বেড়ে চলেছে—
বয়সের সাথে তোমার
গর্ব ও শোক সমান সমান ভাবে
আছে,
তাতে তোমার মন খারাপ
এখনও হয়?
আমি যখন উত্তেজিত হই
রাগে,
বেলুনের মতো নিজেকে ঝড়ের
মধ্যে উড়িয়ে দিই—
এটাই সত্যিই সুন্দর,
তুমি মনে মনে গর্বিত হবে
বসন্তে কোকিলের মতো--
যদি তোমাকে খোটা দেয়
আঘাত করে না-পারার জন্য,
তুমি কি বাজপাখির মতো
ওদের একটা চোখ উপড়ে নেবে?
আর একটা চোখের মণিতে ক্ষুরধার
ছুরি দিয়ে আঘাত করবে,
সেটাই ভালো হবে,
কারণ এটাই তো ভালোবাসা
তোমার ওর সাথে—
বিনি,
পারস্পরিক জগতে তুমি
আমার বন্ধু,
হয়তো রান্নাঘরে তুমি চোখের
জল ফেলেছো—
আমাকে জিজ্ঞেস করায়
যে রাতে আমি ধর্ষিত হয়েছি,
আমি তার সৎ চোখের সাথে
চোখ রেখেছিলাম—
দুই চোখ অপরিচিত নয়,
হৃদয় শুধু গ্লানিতে বিস্মৃত--
অন্য ব্যস্ততার মাঝে আমি আজ
ব্রহ্মার কাছে গিয়েছিলাম প্রার্থনা জানাতে,
সাইড ব্যাগে মদের বোতল ও ফুলের মালা ছিল—
বিনি তুমি আমার হাত ধর
আমি আজ ব্রহ্মাকে বলবো,
আমার উরুতে নেকড়ের দাঁতের দাগ,
আপনি খালি হাতে তাদেরকে
হত্যা করতে পারবেন
আমার জন্য?
কোনো ভাবনা ছাড়া
আমার চোখে জল আসে,
আমার পরিষ্কার টিশার্ট
নষ্ট হয়েছে আমারই কান্নার জলে--
খারাপ কিছু লিখতে চাই না,
যা ঘটেছে আমার সাথে,
সৎ চোখদুটো এখনও আমারই--
বিনি, আমি তোর দোসর
অরুন্ধতী,
কিভাবে লিখেছি আমি জানি না—
লিখতে পেরেছি,
কারণ
আমার কোনো দেবতা নেই...
3/2/2026
Amitava Mukherjee
Recitation: Antara Das
Illustration: Sumit Sanyal
Branding: Kaushik Bhattacharyya
Copyright@ Amitava Mukherjee
Kobita Abriti te Binir sathe bakalap jeno samne thake drishoman hoea uthche
thank you!