ফিরে যাবে লোকালয়ে

ওভারহেড ক্রেনটি
উজ্জ্বল সম্ভবনায় নেমে আসে
নখের ব্যস্ততায়—
লোহার সামগ্রী রাখে একটার
পর একটা, নখের আশ্বাসে—
হাত নাড়ে এপ্রান্তে, হাত নাড়ে ওপ্রান্তে —
প্রত্যেক সামগ্রীর যোগে,
প্রত্যেক জিনিষের আয়োজনে,
সামগ্রিক ধ্বংসের প্রান্তিকে—
সামনে থেকে ভালো লাগে,
সবুজ পার্কের ধ্রুব বাসনা,
পড়ন্ত রোদ্দুরে নরম করে ভেসেছে—
এতে কি নাম লেখা আছে?
এতে কার কণ্ঠস্বর আছে?
আমি কি আমি?
সেই অন্য মুখে
বিরহের নাটকে—
সুচেতা সিনহার চোখের
সমুজ্জ্বল তারা
যে প্রতি মুহূর্তে,
সমুদ্রের প্রসারে,
পর্বতের চূড়ায় ধরে রাখে
বাজপাখিকে—
ইডিপাসের হৃদয়ের সাম্রাজ্যে—
তারই ভাষা দায়িতের রূপে
হৃদয়ের গভীরে প্রত্যাহত,
ফিরে যাবে লোকালয়ে—
বছরের পর বছর,
ডুবে থাকা মৃত তিমি
প্রেমের ছদ্মবেশে।
4/3/2026
Amitava Mukherjee
Recitation: Antara Das
Illustration: Sumit Sanyal
Branding: Kaushik Bhattacharyya
Copyright@ Amitava Mukherjee
Having a new touch .
Thank you!
“ফিরে যাবে লোকালয়ে” মূলত এক ধরনের অস্তিত্ব-সন্ধানী কবিতা, যেখানে “লোকালয়” শব্দটি নিছক জনপদ বা মানুষের বসতি নয়, বরং মানুষের সম্মিলিত জীবন, সম্পর্ক, স্মৃতি ও মানবিক আশ্রয়ের এক প্রতীক। কবিতার সবচেয়ে বড় শক্তি তার আবহ নির্মাণে—একটি নিঃশব্দ বিষণ্ণতা, অন্তর্মুখী সুর এবং ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কবিতার শরীর জুড়ে কাজ করে। অমিতাভের চিত্রকল্প নির্মাণের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য। প্রকৃতি, পথ, শূন্যতা, প্রত্যাবর্তনের মতো ইমেজ কবিতায় এক ধরনের দার্শনিক অনুরণন তৈরি করে, যা পাঠের পরেও মনে থেকে যায়। এই সংযমী ভাষা ও মৃদু স্বর কবিতাটিকে উচ্চকিত আবেগের বদলে গভীর ভাবনার স্তরে নিয়ে যায়।
আমার মনে হয়েছে এটি একটি চিন্তাশীল, প্রতীকনির্ভর ও আবহসমৃদ্ধ কবিতা, যেখানে কবির ভাষাবোধ ও ইমেজ নির্মাণের দক্ষতা স্পষ্ট। এটি পাঠককে ভাবায়, তার মধ্যে এক ধরনের নিঃসঙ্গ প্রত্যাবর্তনের অনুভূতি জাগায়। কিন্তু একই সঙ্গে, তার অতিরিক্ত বিমূর্ততা ও ইমেজের ঘনত্ব কবিতাটিকে কিছু ক্ষেত্রে পাঠকের আবেগের নাগালের বাইরে সরিয়ে দেয়। ফলে কবিতাটি মস্তিষ্কে বেশি অনুরণিত হয়, হৃদয়ে একটু কম—তবু তার শিল্পগুণ ও ভাবনার গভীরতা একে স্মরণযোগ্য করে তুলেছে।
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য
Thank you, Biswajit, for your insightful and literary analysis!