• হাইকু
  • টাঙ্কা
  • হাইবুন
  • পদ্য
  • কাব্য কাহিনী
  • মনেরকথা
  • কাব্য নাট্য
  • All Categories
  • Gallery
    • Publications
    • Videos

What are you looking for?

Main Menu

  • হাইকু
  • টাঙ্কা
  • হাইবুন
  • পদ্য
  • কাব্য কাহিনী
  • মনেরকথা
  • কাব্য নাট্য
  • All Categories
  • Gallery
    • Publications
    • Videos
প্রবন্ধ

প্রবন্ধ-মার্জিনে লেখা 

Amitava Mukherjee
Amitava Mukherjee
6 Min Read
16 Views
0 Comments

মার্জিনে লেখা 

অমিতাভ মুখোপাধ্যায়

১০ অক্টোবরের পরের আন্দোলনের একটি বিনির্মাণবাদী পাঠ

১০ অক্টোবর দেশের রাজধানী নিজের দরজায় তালা দিল — কোনো বহিরাগত শত্রুর বিরুদ্ধে নয়, নিজেরই নাগরিকদের বিরুদ্ধে। পঁয়তাল্লিশটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, প্রতিবাদস্থলের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন, কয়েকশো ট্রেন বাতিল, আর মোতায়েন প্রায় তেইশ হাজার কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ। স্টেডিয়ামগুলো হয়ে উঠল আটক-শিবির। সন্ধ্যা নাগাদ আধিকারিকেরা জানালেন, আটকের সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়েছে। আটক হলেন বিরোধী শিবিরের প্রথম সারির নেতারা, সুপ্রিম কোর্ট থেকে মিছিল করে আসা আইনজীবীরা, সাংবাদিকেরা, এবং একটি বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সর্বভারতীয় সভানেত্রীও। যেখানে পৌঁছনোর অনুমতি ছিল না, ছাত্রদের নিয়ে সেদিকে এগোনোর সময় তাঁকে তুলে নেওয়া হয়।

দাবিগুলো সরল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদত্যাগ করতে হবে; ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) স্থগিত রাখতে হবে; ২০২৫ সালের জানুয়ারির ভোটার তালিকা ফিরিয়ে আনতে হবে; আর নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইন বাতিল করতে হবে। জবাবে, আরও গণতন্ত্রের দাবি তোলা মানুষদের হাত থেকে গণতন্ত্রেরই এক প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে গোটা শহরকে দুর্গ বানিয়ে ফেলা হল।

এই স্ববিরোধ থেকেই বিনির্মাণের পাঠ শুরু।

কেন বিনির্মাণ, কেন এখন

জাক দেরিদা দেখিয়েছিলেন, অর্থের প্রতিটি কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকে জোড়া-বিপরীতের উপর, আর সেই জোড়ার একটি পক্ষ নিঃশব্দে অন্যটির উপর কর্তৃত্ব করে: কথ্যের উপর লিখিত, প্রান্তের উপর কেন্দ্র, বিশৃঙ্খলার উপর শৃঙ্খলা, বহিরাগতের উপর নাগরিক। বিনির্মাণ মানে ধ্বংস নয়। মানে এতটা মন দিয়ে পড়া, যাতে বোঝা যায় এই উঁচু-নিচু ভাগটা টলমলে, আর যাকে ‘গৌণ’ বলা হচ্ছিল, সে-ই আসলে গোটা কাঠামোটা ধরে রেখেছিল।

প্রতিবাদ একটি পাঠ, রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়াও তাই। পাশাপাশি পড়লে জুলাই থেকে ১০ অক্টোবরের ঘটনাপ্রবাহ আসলে আশার কথা বলে।

এই পাঠে শৃঙ্খলা হিংসার বিপরীত নয়; ১০ অক্টোবর শৃঙ্খলা ছিল সেই নাম, যা হিংসা নিজেকে দিয়েছিল। ‘শৃঙ্খলা’ রক্ষার জন্য যে রাষ্ট্রকে রাজধানী সিল করতে হয়, সে আসলে মেনে নেয় যে তার শৃঙ্খলা ভঙ্গুর, আর ফাটলটা তার নিজের ভিতের মধ্যেই।

যে নেত্রী কেন্দ্র হতে চান না

এই আন্দোলনের কেন্দ্রে থাকা তরুণ ছাত্রনেত্রী কি যোগ্য নেত্রী, নাকি নিজের ব্র্যান্ডিংয়ে গড়া এক ভাবমূর্তি? প্রশ্নটার ভেতরেই একটা জোড়া-বিপরীত লুকিয়ে আছে: যোগ্য নেত্রী বনাম বানানো আইকন। বিনির্মাণ বলে, এই রেখা কখনও পরিষ্কার নয়, কারণ প্রত্যেক জনপরিচিত মানুষের খানিকটা অন্যদের হাতেও লেখা হয়। আসল প্রশ্ন, কলম কার হাতে।

তাঁর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত তাঁর বিরুদ্ধেই লিখেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি আটক হন, আবার ২ অক্টোবর। ৪ অক্টোবর প্রতিবাদস্থলের কাছ থেকে তুলে নিয়ে কয়েক ঘণ্টা পরে তাঁকে ছাড়া হয় শহরের একেবারে প্রান্তের এক থানায়। সংগঠনের অভিযোগ, তাঁর ফোন আর ব্যাগ রেখে দেওয়া হয়েছিল; পুলিশ তা অস্বীকার করে। একই সন্ধ্যার দুটি বয়ান, দুটিই নিজেকে ‘প্রকৃত নথি’ বলে দাবি করছে। ১০ অক্টোবর তাঁর সহযোদ্ধারা জানান, তাঁকে আলাদা করে রাখা হয়েছিল, আইনজীবীদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

অথচ সেই সপ্তাহে তাঁর নিজের কথাগুলো ছিল বাইরের দিকে মুখ করা, নিজের দিকে নয়। এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বললেন, ছাত্র সংগঠন, বিরোধী দল আর নাগরিক সমাজ এখন এক দিকে দাঁড়িয়ে, এবং শাসক দলের সমর্থকদেরও নতুন করে ভাবার আবেদন জানালেন। মিছিলের দিন নিজের প্রজন্মকে বললেন স্বস্তির বদলে বিবেককে বেছে নিতে। প্রচলিত আইকন অর্থকে নিজের দিকে টেনে আনেন; ইনি তা পাঠিয়ে দেন অন্যত্র — বিহারের আটক ছাত্রদের কাছে, রাঁচির চাকরিপ্রার্থীদের কাছে, তালিকা থেকে নিঃশব্দে উধাও হয়ে যাওয়া ভোটারের কাছে। দেরিদার ভাষায় তিনি ‘কেন্দ্র’ নন, বরং ‘চিহ্ন-রেখা’ (trace): এমন এক দাগ, যা অনুপস্থিতের দিকে আঙুল তোলে। এটাই তাঁর আসল শক্তি, আর সেই কারণেই আন্দোলন টিকে থাকার জন্য তাঁর নামের মুখাপেক্ষী নয়।

ভোটার তালিকা: ক্ষমতার মহাফেজখানা

‘আর্কাইভ ফিভার’-এ দেরিদা বলেছিলেন, মহাফেজখানা যার হাতে, সমাজ কী মনে রাখবে তা-ও ঠিক করে সে। মহাফেজখানা কখনও নিরপেক্ষ নয়। কী থাকবে, কী শ্রেণিবদ্ধ হবে, কী মুছে যাবে, সব সে-ই ঠিক করে।

ভোটার তালিকা গণতন্ত্রের সবচেয়ে অন্তরঙ্গ মহাফেজখানা। এটাই লিখিত প্রমাণ যে একজন মানুষ প্রজাতন্ত্রে উপস্থিত। এসআইআর সেই মহাফেজখানাকে মুছে ফেলার জায়গায় পরিণত করেছে। কলকাতার গবেষকদের সংকলিত তথ্য বলছে, পশ্চিমবঙ্গে যাঁদের নাম বাদ গেছে বা বিচারাধীন রাখা হয়েছে, তাঁদের প্রায় ৬২ শতাংশ মহিলা, এবং তাঁরা মূলত মুসলিম, তফসিলি জনজাতি ও মতুয়া-অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলির বাসিন্দা। শুধু মুর্শিদাবাদেই সাড়ে চার লক্ষের বেশি নাম কাটা গেছে। বিহারের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ হয়েও খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়াদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মুসলিম। উত্তরাখণ্ডের ৪৫টি কেন্দ্রে বাদ পড়া নামের সংখ্যা আগের নির্বাচনের জয়ের ব্যবধানকেও ছাড়িয়ে গেছে।

এখানে দেরিদার আরেকটি ধারণা কাজে আসে: ‘সম্পূরক’ (supplement)। নথির কাজ জীবন্ত নাগরিকের সহায়ক হওয়া। এসআইআর-এ সেই সম্পূরকই মানুষের জায়গা দখল করে নিয়েছে। বিয়ের পর অন্য গ্রামে চলে যাওয়া মেয়ে, ভিনরাজ্যে খাটতে যাওয়া শ্রমিক, বন্যায় কাগজ হারানো বৃদ্ধ — সশরীরে সবাই উপস্থিত, অথচ নথিতে অনুপস্থিত, কারণ এখন মানুষের চেয়ে কাগজের দাম বেশি। দেরিদার তৈরি শব্দ ‘দিফেরঁস’ (différance) বোঝায় এমন অর্থ, যা কখনও পুরোপুরি হাজির হয় না, কেবলই পিছিয়ে যায়। এই ভোটারদের ক্ষেত্রে পিছিয়ে গেছে নাগরিকত্বই।

তাই এসআইআর স্থগিত রাখা আর পুরনো তালিকা ফেরানোর দাবি নিছক প্রশাসনিক খুঁটিনাটি নয়। এর মানে মহাফেজখানাকে তার পাহারাদারদের হাত থেকে ফিরিয়ে আনা।

মধ্যবিত্ত, না প্রান্তিক? জোড়া-বিপরীতের খোলস ভাঙা

এটা কি মধ্যবিত্তের আন্দোলন, না প্রান্তিক মানুষের? সরল উত্তর হল, এর দৃশ্যমান মুখ তরুণ, শিক্ষিত, শহুরে; আর এর গভীরতম ক্ষত বইছেন গরিব মানুষ, মহিলারা আর সংখ্যালঘুরা।

বিনির্মাণ আরও এক ধাপ এগিয়ে এই বিভাজনটাকেই প্রশ্ন করতে বলে। দেরিদার পাঠে প্রান্ত কখনও কেবল পাতার বাইরে নয়; প্রান্তই পাতাকে তার আকার দেয়। যে ছাত্রীর প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে আর মুর্শিদাবাদের যে গৃহবধূর নাম কাটা গেছে, দুজনেই একই ভেঙে পড়া মহাফেজখানার শিকার — একজনের উত্তরপত্রের, অন্যজনের ভোটার তালিকার। দুজনেই শিখেছেন, দূরের কোনও দফতরে থাকা এক টুকরো কাগজ বছরের পর বছরের পরিশ্রম, কিংবা গোটা জীবনের শিকড়, এক নিমেষে বাতিল করে দিতে পারে।

সবচেয়ে ধারালো উদাহরণ সেই শব্দটি, যা এই যুব-জোয়ারের নাম হয়ে উঠেছে। মে মাসে বিচারাসন থেকে আসা এক মন্তব্যে কিছু বেকার তরুণকে তুলনা করা হয়েছিল আরশোলার সঙ্গে। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে এক তরুণ সংগঠক সেই অপমানকেই দলের নাম বানিয়ে ফেললেন, আর লক্ষ লক্ষ তরুণ তাঁর পিছনে এলেন। দেরিদা একে বলতেন ‘পুনরাবৃত্তিযোগ্যতা’ (iterability): যে-কোনও চিহ্নকে তার মূল প্রসঙ্গ থেকে তুলে নতুন প্রসঙ্গে বসানো যায়, আর সেখানে সে নতুন অর্থ পায়। অবজ্ঞার শব্দ হয়ে উঠল টিকে থাকার প্রতীক। প্রান্ত পাল্টা লিখল।

১০ অক্টোবর এই বিভাজন আরেকবার টলে গেল। কয়েক ঘণ্টার জন্য প্রবীণ রাজনীতিক, প্রবীণ আইনজীবী আর সাংবাদিকদের সঙ্গে ঠিক সেই আচরণই করা হল, যা সাধারণ প্রতিবাদীদের সঙ্গে হয়ে থাকে। ছাত্র আর পরিবারের সঙ্গে একই লাইনে তাঁদেরও বাসে তোলা হল, বিনা ব্যাখ্যায় আটকে রাখা হল। খবর অনুযায়ী আইনজীবীদের মুক্তির জন্য প্রধান বিচারপতিকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। সেই মুহূর্তে কেন্দ্র আর প্রান্তের রেখা তর্কে মোছেনি, মুছেছে অভিজ্ঞতায়।

আইন, ন্যায় আর ভূতুড়ে ভিড়

‘ফোর্স অফ ল’ প্রবন্ধে দেরিদা আইন আর ন্যায়কে আলাদা করেছিলেন। আইনকে লেখা যায়, প্রয়োগ করা যায়। ন্যায়কে কোনও নিয়মে পুরোপুরি ধরা যায় না, আর সে বারবার আইনকে জবাবদিহি করতে ডাকে। নিষেধাজ্ঞা, অনুমতি না দেওয়া, মেট্রো বন্ধ — সংকীর্ণ অর্থে সবই আইনসম্মত। আন্দোলনের শক্তি সেই আইনসম্মতির ওপারে এমন এক ন্যায়ের কাছে আবেদনে, আইন যার নাগাল এখনও পায়নি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির ইমপিচমেন্টের মতোই কঠিন সংসদীয় প্রক্রিয়া লাগে, আর সংখ্যা বিরোধীদের পক্ষে নেই। তাই দাবির নিশানায় ২০২৩ সালের নিয়োগ আইনও। আন্দোলন চাইছে আইনকে ন্যায়ের দিকে নতুন করে লেখা হোক; কেবল মেনে চলা বা অমান্য করা নয়।

সপ্তাহটায় একটা ভূতও ছিল। মিছিলের আগে সমাজমাধ্যমে দাবি উঠল, পাঁচ লক্ষ, তারপর দশ লক্ষ পাল্টা-প্রতিবাদী আসছেন। একটি পোস্ট পরে সরিয়ে নেওয়া হয়, পুরনো ভিডিও নতুন বলে চালানো হয়, আর যাদের নামে এই দাবি, তারাও শেষে তা উড়িয়ে দেয়। দেরিদা ‘হন্টোলজি’ বলতেন এমন উপস্থিতিকে, যা বাস্তব নয়, ভৌতিক। এই কাল্পনিক ভিড় দেখায়, অনুপস্থিতিকেও অস্ত্র বানানো যায়। আর তার পাশে আন্দোলনের নিজের ভিড় — হাজারে হাজারে আটক, গুনে রাখা মানুষ — আরও বেশি বাস্তব হয়ে ওঠে।

যে গণতন্ত্র এখনও আসছে

এই আন্দোলন কি সরকার-বিরোধী রাজনীতিকে সত্যিই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে? বিনির্মাণের পাঠে উত্তরটা নিছক ‘হ্যাঁ’-এর চেয়ে বেশি ধৈর্যশীল, এবং বেশি আশাবাদী।

দেরিদা বলতেন ‘লা দেমোক্রাসি আ ভনির’ — আগামীর গণতন্ত্র। ভবিষ্যতে অপেক্ষমাণ কোনও স্বপ্নরাজ্য নয়। তাঁর মতে গণতন্ত্র কখনও পুরোপুরি হাজির হয় না; তার ভেতরে সবসময় একটা না-রাখা প্রতিশ্রুতি থাকে, যা কাউকে না কাউকে বারবার দাবি করে যেতে হয়। এই প্রতিবাদগুলো সেই দাবিরই জায়গা।

আন্দোলন সংযম দেখিয়েছে: প্রবীণ আন্দোলনকর্মীরা যে-কোনও মূল্যে শান্তিপূর্ণ থাকার আবেদন জানিয়েছেন, আর আয়োজকেরা পুলিশকে আনুষ্ঠানিক চিঠি ও লিখিত অঙ্গীকার দিয়েছেন। ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে: কয়েকজন নেতাকে বিমান থেকে নামিয়ে আটক করার পর সহযোদ্ধারা পরদিন সকালেই সমর্থকদের ফের প্রতিবাদস্থলে ডেকেছেন। ঐক্যও গড়েছে: সাধারণত প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো আর পরস্পর-প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্র সংগঠনগুলো একই ফুটপাত, একই পুলিশের বাস ভাগ করে নিয়েছে। গণ-আটক নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার দফতরও।

বিনির্মাণের একটা মৃদু সতর্কবাণীও আছে। যে আন্দোলন একটি উঁচু-নিচু কাঠামো উল্টে দেয়, তার মধ্যেও নতুন এক কেন্দ্র আর নতুন এক ‘ওরা’ তৈরির প্রলোভন থাকে। শাসক দলের সমর্থকদের কেবল নিন্দা না করে তাঁদের উদ্দেশে কথা বলার যে প্রবণতা এই আন্দোলনে দেখা যাচ্ছে, সেটাই ঠিক পথ। আন্দোলনের শক্তি নির্ভর করবে তার সীমানা খোলা রাখার উপর, যাতে মুর্শিদাবাদের সবচেয়ে গরিব গৃহবধূ, রাঁচির চাকরিপ্রার্থী আর লখনউয়ের দোটানায় থাকা ভোটার, সবাই এর দাবির মধ্যে নিজেদের মুছে ফেলা নাম খুঁজে পান।

মার্জিনে লেখা

দেরিদার সবচেয়ে পরিচিত দাবি, পাঠের বাইরে কিছু নেই। এ বছর লক্ষ লক্ষ ভারতীয়ের কাছে সেই পাঠ ছিল একটি ভোটার তালিকা, আর তাঁরা দেখলেন, তাঁরাই তার বাইরে।

অনশনে, পুলিশের ভ্যানে, অবরুদ্ধ রাস্তায় প্রতিবাদীরা যা করছেন, তা হল সেই পাঠের মার্জিনে লেখা। সেই টীকা মুছে ফেলা যায় না। গণতন্ত্রের যে-কোনও মনোযোগী পাঠক শেষ পর্যন্ত মার্জিনের দিকেই চোখ ফেরান, কারণ অর্থ আসলে নির্ধারিত হয় সেখানেই।

অক্টোবর ২০২৬

Copyright:অমিতাভ মুখোপাধ্যায়

Illustration: সুমিত সান্যাল

Branding: কৌশিক ভট্টাচার্য

Please share this article if you like it!

Link Copied!
Amitava Mukherjee
Written By

Amitava Mukherjee

Academician and Writer

Other Articles

Previous

Deconstructing the Ghost: Devdas and the Illusion of Subjective Marriage in 21st-Century India

No Comment! Be the first one.

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Subscribe to our newsletter

Get latest updates, offers and news directly in your inbox.

All Right Reserved! Concept: Kaushik Bhattacharyya, Illustrations: Sumit Sanyal