কাব্য-কাহিনী: সহজ মেয়ের মতো সন্ধেতে

আশনার রোববারের সন্ধে—
পোশাকি শরীরে গোলাপের গন্ধ
বসার ঘরেতে—
ওহে আশনা, দুই চোখ ভালোবাসে।
আশনার অবহেলায়, মোমবাতির সখ্যতায়
শান্ত চাঁদ আপন মনে
শুঁড়িখানার মায়াবী মদ নিয়ে
বসে আছে, কথায় কথায়—
ও আশনা—
পালানি পাহাড় রাতের অন্ধকারকে
সহজ করে নিয়েছে—
প্রতিটি রেখা স্পষ্টত চেনা যাচ্ছে
মোমবাতির আলোতে।
সরু রাস্তাগুলো
একা একা এখন আছে—
মাত্র কয়েকটি শাটার বন্ধ হয়েছে
দোকানগুলোর, রাস্তার আলোতে।
মেয়ে-রাতের উছল আলোয়
আশনা সহজেই ঘুমকে
নিজের করে বকুল ফুলের মতো।
আশনার শুয়ে থাকার নীরবতা ঋণী হয়ে
তার নীরব ঘরেতে
পালানি পাহাড়ের রূপরেখায়।
সে ভাবতে থাকে
ঘরের অস্থিরতা ঘরেরই ক্ষতে—
চোখেতে চোখ ছুঁয়ে থাকে।
আহা আশনা—
তাই পালানি পাহাড় তোমার মনকে
উন্মুক্ত করেছে চোখেরই ভেতরে
একা শান্ত চাঁদেরই মতো।
যুবতী মেয়ের নীল ফুলের ছায়ায়
শুয়ে থাকাকে
পালানি পাহাড় ডমরু বাজিয়ে জানিয়েছে
আকাশ-চাঁদকে—
মেয়ে-রাতের চোখে ঘুম লেগেছে।
ওহে আশনা—
পালানির রূপরেখা রাত আকাশের
কাছে
তম্বী যুবতী হয়ে আসে—
কথা ছিল লম্বা ঘড়ির নীচে একাই থাকবে।
রাত আকাশের প্রত্যাখ্যানে
পালানির টানটান রূপরেখা
চোখের পলকে ডুবে থাকে—
আশনা জানতে পারেনি
এই ছেড়ে যাওয়া তম্বী যুবতীকে।
পালানির চোখের শিশির জলে
তার ভেজা রূপের প্রদর্শনী
শুধু একলা চাঁদই জানে—
আশনার প্রতিদিনের কাজের শেষে
সহজ মেয়ের মতো রোববারে
ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে মনেতে ভাসে—
কতজনকে ছোট, বড়ো
প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে
খুশি, অখুশিতে হাতে করে দিয়েছে
রাগ আর ঈর্ষা।
আহা আশনা—
শুনতে পেয়েছো
একজন অচেনা লোক মাঝ রাতে
শুঁড়িখানা থেকে ফিরেছে বাড়ির দিকে—
সুরে বেসুরে গাইতে গাইতে—
শান্ত অবুঝ চাঁদ আসেনি ওর সাথে।
আশনার মাঝরাতে হৃদয় কেঁপে উঠেছিল
পালানির মুখ লুকানো অন্ধকারে
আর একটি অন্ধকার
ভিজেছিল ওই ছেড়ে যাওয়ায়।
আশনার আশেপাশে
জানাঅজানায়, তারই পৃথিবী থেকে
সবকিছু কিভাবে চলে যায়—
সামান্য কিছুই
দাঁড়ি টেনে রেখে যায়।
সহজ মেয়ের মতো সন্ধেতে
আশনা তোমার মনে
উৎসবের দিক-চিহ্ন ছিল
বুকের ভেতরের পরিক্রমায়।
পালানি পাহাড়ের রূপরেখার
প্রত্যাখান ছিল রাত আকাশের—
শান্ত চাঁদ সাক্ষী ছিল একাকী।
18/1/2026
Amitava Mukherjee
Recitation: Antara Das
Illustration: Sumit Sanyal
Branding: Kaushik Bhattacharyya
Copyright@ Amitava Mukherjee
No Comment! Be the first one.