কাব্য-কাহিনী-মুঠোয় ছলনার আগুনে
পর্ব-১

মুঠোয় ছলনার আগুনে
কেটলির সোঁসোঁ শব্দে
পিছু হটে বাসনা
দাঁড় ছিঁড়ে।
এটাকে তন্দ্রাহীন বলি না
নতুন ঝুঁকি থাকবে।
যেমন আশনা গোলাপি
চন্দ্রহারকে জলে ভাসিয়ে,
ঝাঁকিয়ে দিয়েছে
দেবতার আশীর্বাদকে,
পায়ের তলায়, হিম রাতে।
মাঝে মাঝে নজরে
আসে—
শহরের বিস্মিত শোক,
তরুণীদের আশ্চর্য চোখে —
ফাটা জিনস ও টপে, ফ্যাশেনে।
অথবা শেষ রাতে
গালে, ঠোঁটে
বাসি চুমুর ক্ষতে,
পালিত যুবকের শেষ
চুমুর শর্তে।
নষ্ট নাসপাতি নিরুত্তাপে-
অন্য চারিত্রিকের নেপথ্যে
আমার কাঁপুনি সত্ত্বেও।
শ্বেত হাঙরের রক্তে উদ্বেগ
উদাসী বাগানে,
চড়াও হয় আকাঙ্ক্ষা,
তরুণী নতুন পোশাকে
আশ্বিনের শেফালিতে—
হয়ত লোরকা চিনেছিল—
আশ্বিনের
এই শেফালিকে।
পর্ব-২

মন তুফানে
আন্দোলিত হয়,
অনিবার্য পরস্পরা
চিৎসাঁতারে—
অন্তত জলের নিচে।
আরেকটি রাতে
মেঘের কামনা তরঙ্গে,
সবুজ আভায় মিহিন ফুল
দূর বসন্তে।
বসন্তে জাহাজঘাটা অনিদ্রায়
মাঝরাত থেকে সকাল অব্দি,
রোমাঞ্চিত মুষ্টিবদ্ধ মনোবাঞ্ছায়
সোনালী ফড়িঙের
রাতভোর লাফ—
কপালের শিষ্টাচারে।
আশনার চিরন্তন সবুজে,
দৃষ্টির অগোচরে,
দৃষ্টান্ত চায়
মুহুর্মুহু প্রলাপে।
আমার ভিতরে তার
দৌড়-ঝাঁপ,
সবুজের তরল সময়ে,
গলায় তার চন্দ্রহার
স্কাইস্ক্র্যাপারের অভিমানে
আমারই ভিতরে।
পর্ব-৩

ড্রয়িং রুমে টেবিল স্ট্যান্ডে,
সবুজের গূঢ় রহস্যে
রয়ে যায়
সময় নিজে থেকে।
এতদিনে গভীরে নামার পথে,
ওয়ারড্রবের প্রতিটি তাকে,
সুতির শাড়ির নম্রতা
এখনও অটুট।
গলায় তার ডুবো সন্ধের
বাদামি হার, একতারে বাঁধা-
চোখের পাতায় নদীর টান,
অনিকাম মুক্ত কানের লতিতে।
সবুজ চলমান খোলা দুই পাড়ে,
জল তরঙ্গে সবুজের রীতিনীতি
এভাবেই ঘটে—
বারংবার দয়িতের রূপে।
তুমি তো বলেছিলে
জল তরঙ্গের চাতুরীতে
নিরুত্তাপে একলা ডুবে যাওয়া--
এবং এই কবিতা এত দেরী
হয়ে গেছে,
তবে কি স্পট করে
বলা ঠিক হবে?
আমার ভাল লেগেছে
তোমারও ভাল লেগেছে
বাজপাখির তরঙ্গে
অনিকাম মুক্ত ডানায়।
এবং আবার বলতে
হবে
অথবা আবারও, আশনা।
6/3/2026
Amitava Mukherjee
Recitation: Antara Das
Illustration: Sumit Sanyal
Branding: Kaushik Bhattacharyya
Copyright@ Amitava Mukherjee
A very nice poem
Thank you!
বাঃ!
ভালোলাগা নেবেন আমার।
বন্ধুতা চাই।
Thank you for your comment!